Resent News

শিশু ও বিঞ্জান মেলা/২০১৮ সাভার উপজেলায় সাভার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ১ম স্থান অর্জন করে।

Home

বিদ্যলয়ের সেকাল-একাল
“কত অজানারে জানাইলে তুমি, কত ঘরে দিলে ঠাঁই
দূরকে করিলে নিকট বন্ধু পরকে করিলে ভাই।”

শ্যামল ছায়া বিজড়িত ঐতিহ্যবাহী সাভারের প্রাণকে্ন্দ্রে অবস্থিত সাভারের একমাত্র নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাভার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় এখন স্বমহিমায় আলো বিকশিত করে চলছে।শিক্ষানুরাগী ও জ্ঞান পিপাসু মানুষের দীর্ঘদিনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলেই এটা সম্ভব হয়েছে। আজ থেকে ৬০ বছর আগে ১৯৫৯ সালে এই বিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু। তারও প্রায় ৪৫ বছর আগে ১৯১৩ সালে মহান ব্যক্তিত্ব রাখাল বাবু প্রতিবেশি অধর চন্দ্র বিদ্যালয় টি প্রতিষ্ঠা করেন। এটি একটি সু প্রসশস্ত দ্বিতর ভবন, যার সামনে রয়েছে বিশাল চত্বর। অনেক দূর থেকে অনেকেই এখানে শিক্ষা লাভের জন্য আসতো। কিন্তু দু:খের বিষয় এখানে মেয়েদের শিক্ষা লাভের কোন সুযোগ ছিলনা। নিকটেই কালিতারার বাড়িতে একটি পাঠশালা (প্রাথমিক বিদ্যালয়)ছিল যেখানে কালিতারা নিজে এবং আরো দ‘জন বিধবা মহিলা শিক্ষকতা করতেন। এই পাঠশালায় পড়ে অধিকাংশ মেয়েদের পাঠ্যজীবন ইতি টানতে হত। আস্তে আস্তে বিষয়টি অনেকেই অনুধাবন করতে পারে। অধরচন্দ্রের শিক্ষরা অনেকেই বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্থানিয় ও জনসাধারনের সাথে আলো চনা শুরু করেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষক শ্রী অমরচাদঁ সাহা, রাধাবল্লভ সাহা, মোহাম্মদ ওমর আলী সহ অনেকেই এব্যপারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। বিষয়টি নিয়ে তারা তদানিন্তন সার্কেল অফিসার (রাজস্ব) মহসীন সাহেব এবং সার্কেল ইনসপেক্টর (পুলিশ)এর কাছে বালিকাদের জন্য একটি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা পেশ করেন্ পরবর্তিতে এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে কয়েক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
অবশেষে ১৯৫৯ সালের ১৯ এপ্রিল সাভার অধর চন্দ্র বিদ্যালয় এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন মহসীন সাহেব (সিও রেভি), উপস্থিত ছিলেন এলাকার খাঁ সাহেব, বাবু ডা: গুরুদাশ সাহা, রণেন চক্রবর্তী, দেবী প্রসাদ মিত্র মজুমদার, জনাব হিরা লাল মিয়া, রনদা প্রসাদ সাহা, রাজেস চন্দ্র পোদ্দার, হরেন্দ্র বাবু সহ অনেকে। আমন্ত্রিত অতিথী হিসাবে এই সভায় যোগ দিয়েছিলেন জনাব মো: আনোয়ার জং ও দেওয়ান মো: ইদ্রিস সহ গন্যমান্য আরো অনেকে। এই সভাতেই মহসীন সাহেব (সি,ও)কে সভাপতি ও শ্রী অমরচাদঁ সাহেব কে সেক্রেটারী ও অন্য তেরজন সদস্যের সমন্বয়ে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদ গঠন করা হয়। বিদ্যালয়ের আর্থিক সংকট মোকাবেলার জন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিকট থেকে অনুদান গ্রহণ এবং হাটের দিন (সপ্তাহে দুই দিন)বাজার থেকে চাঁদা উঠানোর সিদ্ধান্ত গৃহীহ হয়। সেই সাথে ১৯৫৯ সালের ১৯ এপ্রিল দিনটি বিদ্যালয় প্রতিষ্টা দিবস হিসাবে স্বিকৃতি লাভ করে।

সর্বমোট ২১ জন ছাত্রী নিয়ে বালিকা বিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। প্রথমে অধর চন্দ্র বিদ্যালয়ে এবং পরে এটিকে নিলুভজন সাহার দোতালা বিল্ডিং এ স্থান্তরিত করা হয়। পরবর্তীতে এটিকে জসাই তলার বিপরীতে ত্রিবেনী পালের বাড়িতে স্থান্তরিত করা হয়। স্থানীয় জনগন ও সরকারের অনুদানে সেখানে নির্মিত হয় ৬টি কক্ষ। সে সময় সাভার অধরচন্দ্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও করনিক শ্রীশ চন্দ্র দাস বিদ্যালয়ের আর্থিক হিসাব নিকাশ সহ বিভিন্ন কাজ দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করতেন। প্রথম দিকে অধরচন্দ্র বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা খন্ডকালীন শিক্ষক হিসাবে ক্লাশ নিতেন। এছাড়া স্থানীয়ভাবে গোপীমোহন সাহা, মালতি পোদ্দার, রীনা সাহাকে প্রাথমিকভাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। প্রধান শিক্ষক হিসাবে এই সময় পর পর দায়িত্ব পালন করেন শান্তি গুপ্তা, দিপালী চক্রবর্তী, সুনিল প্রভা দে, লুৎফুন্নেছা, ক্ষিতিশ চন্দ্র বসু রায় মিত্র মজুমদার, হোসনেয়ারা। এই সময় বিদ্যালয় অনুমোদন লাভের জন্য চেষ্টা করলেও জায়গা জমির অভাবে সেটা সম্ভব হয়ে উঠছিল না। ঠিক সেই মূহুর্তে মো: ফিরোজ কবির (বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান) এর পিতা এ্যাডভকেট আজগর হোসেন ছিলেন তদনীন্তন পূর্ব পাকিস্তান সরকারের সংসদ সদস্য এবং ডিপুটি স্পিকার। তার চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত অনুমোদন লাভ করা সম্ভব হয়। ১৯৫৯ সালে সাভার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় হতে পরীক্ষার্থীরা প্রথম এস এস সি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পায়। এগার জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এবং এগার জনই উত্তীর্ণ হয়।এই সময় প্রধান শিক্ষক ছিলেন ক্ষিতীশ চন্দ্র রায় চৌধুরী।

Savar Girls High School © 2016 Frontier Theme